আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বান্দরবান-৩০০ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী জোরালো নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় প্রতীক ধানের শীষ হাতে নিয়ে তিনি লামা পৌরসভা, রূপসীপাড়া এবং লামা সদর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে পথসভা, গণসংযোগ ও বাজার সভার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন।
প্রচারণা কার্যক্রমে পাহাড়ি ও বাঙালি নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দিনব্যাপী লামা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন সাচিং প্রু জেরী। সকালে রূপসীপাড়া ইউনিয়নের হৃদয় মাস্টার পাড়ায় বড়ুয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে তিনি স্বপ্ন কানন বিদ্যাপীঠ মাঠ, রূপসীপাড়া বাজার, বল্ল্যাচর, লামামুখ বাজার, মেরাখোলা এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন। সন্ধ্যায় লাইনঝিরি ও নয়াপাড়ায় পথসভায় অংশ নেন তিনি।
এ সময় সাচিং প্রু জেরী বলেন, “ধানের শীষ আজ সাধারণ মানুষের আশা ও আস্থার প্রতীক। এই পাহাড়ি জনপদ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। নির্বাচিত হলে ৩১ দফা বাস্তবায়নের পাশাপাশি যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করব। বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই।”
বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আমির হোসেন জানান, এর আগের দিন বুধবারও সরই ও গজালিয়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। এসব কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান ইয়াহইয়া, জেলা বিএনপির অধ্যাপক ওসমান গণি, আব্দুল মাবুদ, থোয়াইনু অং চৌধুরীসহ দলীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে নির্বাচনী মাঠে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে এনসিপির সাইদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন (শাপলা কলি) এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আবুল কালাম (হাতপাখা) সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালালেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ওয়ালী উল্লাহর (লাঙ্গল) তৎপরতা তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় এ আসনে বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন বলে স্থানীয় ভোটারদের ধারণা।
নির্বাচন প্রস্তুতি সম্পর্কে লামা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ৪২টি ভোটকেন্দ্রে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৮৮ হাজার ৮২৯ জন। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।”
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে প্রশাসন কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে। সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।